বিয়ের বায়োডাটা

বায়োডাটার ছবি কেমন হবে

সর্বশেষ হালনাগাদ:

বায়োডাটার ছবি হবে সাম্প্রতিক, দিনের স্বাভাবিক আলোয় তোলা, সাদামাটা ব্যাকগ্রাউন্ডে এবং শালীন পোশাকে। মুখ পরিষ্কার দেখা যায় এমন কাঁধ বা বুক পর্যন্ত একটি ছবিই যথেষ্ট, ভারী ফিল্টার ছাড়া। আর মনে রাখবেন, ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

আলো: জানালার পাশে দাঁড়ান

ভালো ছবির অর্ধেক কাজ করে আলো। দিনের বেলা একটা বড় জানালার দিকে মুখ করে দাঁড়ান, যাতে আলো সামনে থেকে মুখে পড়ে। সরাসরি রোদ এসে পড়লে পাতলা পর্দা টেনে দিন, তাতে আলো নরম হয়ে আসে।

যা এড়িয়ে চলবেন:

  • মাথার ঠিক ওপরে টিউবলাইট বা বাল্ব, এতে চোখের নিচে কালো ছায়া পড়ে
  • পেছনে জানালা রেখে ছবি তোলা, এতে মুখ অন্ধকার দেখায়
  • ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, এতে মুখ চকচকে আর সমতল দেখায়

ব্যাকগ্রাউন্ড সাদামাটা রাখুন

হালকা রঙের ফাঁকা দেয়াল সবচেয়ে ভালো। পেছনে আলমারি, ঝোলানো কাপড় বা অন্য মানুষ থাকলে চোখ সেদিকেই চলে যায়। বাসায় ফাঁকা দেয়াল না পেলে একটা হালকা রঙের চাদর টানিয়ে নিন। বাইরে তুললে গাছপালা বা খোলা জায়গা চলে, শুধু পেছনে যেন ভিড় না থাকে।

পোশাক: শালীন ও আরামদায়ক

যে পোশাকে আপনি স্বচ্ছন্দ এবং যা আপনার পরিবারের রুচির সঙ্গে মানায়, সেটাই পরুন। পাঞ্জাবি, শার্ট, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ বা হিজাব, সবই সুন্দর দেখায়। কয়েকটা ছোট কৌশল:

  • একরঙা বা হালকা নকশার পোশাক বেছে নিন; খুব ঘন নকশা ছবিতে চোখে লাগে
  • ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে মিলে যায় এমন রং এড়িয়ে চলুন, যেমন সাদা দেয়ালের সামনে সাদা জামা
  • ভারী গয়না বা অনুষ্ঠানের সাজের দরকার নেই; পরিচ্ছন্ন প্রতিদিনের চেহারাই বেশি বিশ্বাসযোগ্য

ভঙ্গি ও অভিব্যক্তি

সোজা হয়ে বসুন বা দাঁড়ান, কাঁধ শিথিল রাখুন, সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকান। হালকা স্বাভাবিক হাসি সবচেয়ে ভালো কাজ করে। ক্যামেরা থাকবে চোখের উচ্চতায়; খুব নিচ থেকে বা ওপর থেকে তুললে মুখের অনুপাত বদলে যায়।

ফোনে তোলার কৌশল

  1. সামনের ক্যামেরার বদলে পেছনের ক্যামেরা ব্যবহার করুন, ছবির মান অনেক ভালো হয়।
  2. তোলার আগে লেন্সটা নরম কাপড়ে মুছে নিন।
  3. সেলফি না তুলে পরিবারের কাউকে তুলে দিতে বলুন।
  4. জুম না করে ফোন নিয়ে একটু কাছে আসুন।
  5. দশ-পনেরোটা ছবি তুলুন, পরে সবচেয়ে স্বাভাবিকটা বেছে নিন।
  6. পোর্ট্রেট মোড ব্যবহার করলে দেখে নিন চুল বা হিজাবের কিনারা ঝাপসা হয়ে যায়নি তো।

এডিটিং: যতটুকু দরকার, ততটুকুই

ক্রপ করা, সামান্য উজ্জ্বলতা বাড়ানো বা ছবি সোজা করা, এটুকুই যথেষ্ট। গায়ের রং ফর্সা করার ফিল্টার, মুখ সরু করা বা চোখ বড় করার অ্যাপ এড়িয়ে চলুন। বায়োডাটার উদ্দেশ্য আপনাকে চেনানো, অন্য কাউকে নয়। সামনাসামনি দেখা হলে পার্থক্য ধরা পড়বেই, তখন আস্থাটাই নষ্ট হয়।

ছবির মাপ ও মান

  • আকার: লম্বালম্বি (পোর্ট্রেট) ছবি, মাথা থেকে বুক পর্যন্ত। বায়োডাটায় ছবি ছোট একটা ঘরে বসে, তাই মুখ যেন ফ্রেমের বড় অংশ জুড়ে থাকে।
  • মান: ফোনের ক্যামেরায় তোলা আসল ছবিটাই দিন। হোয়াটসঅ্যাপ থেকে নামানো ছবি বা স্ক্রিনশট ঝাপসা হয়, প্রিন্টে আরও খারাপ দেখায়।
  • সংখ্যা: একটি ছবিই যথেষ্ট। কয়েকটা ছবির কোলাজ বায়োডাটাকে ভারী করে তোলে।

পাত্র ও পাত্রীর জন্য ছোট কয়েকটি পরামর্শ

পাত্রদের জন্য: চুল বা দাড়ি কাটার ঠিক পরপর নয়, দুই-এক দিন পর ছবি তুলুন, তাতে চেহারা স্বাভাবিক দেখায়। ইস্ত্রি করা শার্ট বা পাঞ্জাবিই যথেষ্ট, স্যুট-টাই পরার দরকার নেই।

পাত্রীদের জন্য: হালকা সাজই ভালো, যাতে সামনাসামনি দেখা হলে চিনতে অসুবিধা না হয়। প্রতিদিন হিজাব পরলে ছবিতেও সেভাবেই দিন। বায়োডাটার ছবির সঙ্গে বাস্তব জীবনের মিল থাকাই সবচেয়ে জরুরি।

যে ছবিগুলো দেবেন না

  • গ্রুপ ছবি থেকে কেটে নেওয়া ছবি
  • সানগ্লাস, মাস্ক বা ক্যাপে মুখ ঢাকা ছবি
  • বিয়েবাড়ি বা পার্টির ভারী সাজের ছবি
  • কয়েক বছরের পুরনো ছবি
  • গাড়ি বা দামি জিনিসের পাশে দাঁড়িয়ে “দেখানো” ছবি

ছবি না দিলেও চলে

ছবি দেওয়া পুরোপুরি আপনার ও আপনার পরিবারের সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অনেক পরিবার প্রথমে ছবি ছাড়া বায়োডাটা পাঠান, আর আগ্রহী পরিবারকে পরে অভিভাবকের মাধ্যমে ছবি দেখান। এ নিয়ে আরও কৌশল আছে পাত্রীর বায়োডাটা নমুনা লেখায়।

BiyeBiodata-তে ছবি যোগ করা

ফ্রি বায়োডাটা এডিটরে ফোনের গ্যালারি থেকে ছবি বেছে নিয়ে টেমপ্লেটে বসাতে পারেন। ছবিটা আপনার ফোনের ব্রাউজারেই থাকে, কোনো সার্ভারে আপলোড হয় না। ছবি দিতে না চাইলে ঘরটি বাদ রাখুন। বায়োডাটা তৈরি হলে বায়োডাটা PDF ও ছবি ডাউনলোড গাইড দেখে PNG বা PDF নামিয়ে নিন।

ছবি প্রস্তুত? তাহলে এখনই বায়োডাটা বানানো শুরু করুন। আর পাঠানোর আগে একবার বায়োডাটা চেকলিস্ট মিলিয়ে নিন।

আপনার বায়োডাটা বানান, ৫ মিনিটে

ফ্রি, রেজিস্ট্রেশন ছাড়া। তথ্য আপনার ফোনেই থাকে।

ছবিসহ বা ছবি ছাড়া বায়োডাটা বানান

সাধারণ প্রশ্ন

বায়োডাটার ছবি কত দিনের পুরনো হতে পারে?

ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে তোলা ছবি দিন। এর মধ্যে চেহারায় বড় পরিবর্তন হলে, যেমন ওজন বদলালে বা দাড়ি রাখলে, নতুন ছবি তুলে নিন।

স্টুডিওতে ছবি তুলতে হবে কি?

না। জানালার পাশে দিনের আলোয় ফোনের পেছনের ক্যামেরায় তোলা ছবিই যথেষ্ট ভালো হয়। স্টুডিওর অতিরিক্ত এডিট করা ছবি অনেক সময় বাস্তবের চেয়ে আলাদা দেখায়।

বিউটি ফিল্টার ব্যবহার করা যাবে?

না করাই ভালো। হালকা উজ্জ্বলতা ঠিক করা বা ক্রপ করা চলে, কিন্তু গায়ের রং বদলানো বা মুখের গড়ন পাল্টানো ফিল্টার এড়িয়ে চলুন। সামনাসামনি দেখা হলে পার্থক্য চোখে পড়ে।

ছবি না দিলে কি সমস্যা হবে?

না। অনেক পরিবার ছবি ছাড়া বায়োডাটা পাঠান এবং আগ্রহী পরিবারকে পরে অভিভাবকের মাধ্যমে ছবি দেখান। BiyeBiodata-তে ছবির ঘর পুরোপুরি বাদ রাখা যায়।